রাজ্যের গ্রামীণ এলাকার মানুষদের বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত করে আত্মনির্ভর করে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। এই প্রক্রিয়ায় সরকার গ্রামীণ এলাকার মানুষদের উন্নয়নে অংশীদার করে তোলার প্রয়াস নিয়েছে। এতে গ্রামীণ জনপদে সাফল্যও আসতে শুরু করেছে। নিজেদের অদম্য ইচ্ছা ও সরকারি সহায়তাকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই আত্মনির্ভর হয়ে উঠছেন। সরকারের এই প্রয়াসের এক উজ্জ্বল নাম ডুকলি ব্লকের অনিতা সরকার ও রতি সরকার। সদর মহকুমার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ডুকলি ব্লকের ফুলতলি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা অনিতা ও রতি সরকার কয়েক বছর আগেও শুধুমাত্র এমজিএন রেগায় দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এমজিএন রেগা ছাড়াও দিনমজুরের কাজই ছিল তাদের একমাত্র জীবিকা। নিজেদের মাটির দেওয়ালের কাঁচা ঘরে তারা থাকতেন। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তাদের ৪ জনের সংসারে অভাব অনটন লেগেই ছিল। তাই বলে দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারী অনিতা ও রতি সরকারের জীবনযুদ্ধ থেমে থাকেনি কখনও। এজনা সাফল্য এসেছে তাদের জীবনে। ২০২১-২২ অর্থবছরে সরকারের সহায়তায় বদলে যেতে থাকে তাদের জীবনযাত্রার ধরা।
পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের আর্থিক সহায়তায় ২০২১-২২ অর্থবছরে অনিতা সরকার ছাগল পালনে সহায়তা পেলেন। সুবিধাভোগী হিসেবে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার পদ্ধতিতে ব্যাঙ্কের মাধ্যমে তার অ্যাকাউন্টে ৬২ হাজার ৭০০ টাকা পেলেন। অনিতা সরকার জানালেন, সরকারের এই সহায়তা পেয়ে উন্নতজাতের ব্ল্যাক বেঙ্গল প্রজাতির ১১টি ছাগল ক্রয় করেন। এই কর্মসূচিতে ছাগল পালনের জন্য একটি ঘরও নির্মাণ করেন। এমজিএন রেগায় কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ছাগল পালন সরকার দম্পতির পরিবারকে বিকল্প আয়ের পথ করে দিলো। অনিতা দেবী জানালেন, ইতিমধ্যেই ৬টি ছাগল ছানা বিক্রয় করে ১৯ হাজার টাকা রোজগার করেছেন। তাছাড়াও আরও ৩টি ছাগল ছানা বাড়িতে রয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে এগুলিও বিক্রি হবে। আরও ৩টি ছাগল নতুন বাচ্চার জন্ম দেবে। এগুলি বাজারে বিক্রয় করে আমার রোজগারও বাড়বে। কথাগুলি বলার সময় অনিতা দেবীর মুখে ছিল সাফল্যের হাসি। তিনি আত্মবিশ্বাসী কন্ঠে জানালেন সরকার পাশে আছে বলেই আমরা আত্মনির্ভর হয়ে উঠছি। অনিতা সরকার আরও জানালেন, সফলভাবে ছাগল পালনে আমাকে প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরও নিয়মিত সহায়তা করছে। দপ্তর থেকে নিয়মিতভাবে বিনামূল্যে ছাগলের টিকা ও ওষুধ পাচ্ছি।
অনিতা সরকার এখন একটি সুন্দর পাকা আবাস নির্মাণের স্বপ্ন দেখছেন। তাদের কাঁচা ঘর আগামীদিনে হয়ে উঠবে পাকা আবাস। গত অর্থবছরেই পঞ্চায়েত থেকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণ প্রকল্পে পেয়েছেন পাকা আবাস নির্মাণের মঞ্জুরি। আবাস নির্মাণের জন্য তিনি ৩ কিস্তিতে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা পাবেন। অনিতা দেবী জানালেন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বরাদ্দ অর্থ ছাড়াও নিজেদের রোজগার থেকে অর্থ ব্যয় করে একটি সুন্দর পাকা আবাস বানাবেন।
