মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহার সভাপতিত্বে ‘মেরি মাটি মেরা দেশ’ শীর্ষক অভিযান কর্মসূচির প্রস্তুতি নিয়ে আজ এক উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সচিবালয়ের ২ নং সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় মুখ্যসচিব জে কে সিনহা, প্রধান মুখ্য বন সংরক্ষক কে এস শেঠি, সহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান সচিব, সচিব সহ উচ্চ পদস্থ আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজাদি কা অমৃত মহোৎসব” এর অঙ্গ হিসাবে সময়ে সময়ে রাজ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। হর ঘর তিরঙ্গা কর্মসূচি বাস্তবায়নে ত্রিপুরা দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ‘মেরি মাটি মেরা দেশ” কর্মসূচিও রাজ্যে সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের বিকাশের পাশাপাশি দেশাত্মবোধক ভাবনায় দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন। রাজ্যে ‘মেরি মাটি মেরা দেশ’ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে সারা দেশে রাজ্যের সুনাম অক্ষুন্ন রাখার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা বলিষ্ঠ ভুমিকা গ্রহণ করবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী আশা ব্যক্ত করেন।
সভায় মুখ্যসচিব জানান, ‘মেরি মাটি মেরা দেশ” অভিযান কর্মসূচি রাজ্যে আগামী ৯ আগস্ট থেকে ১৫ আগষ্ট অনুষ্ঠিত হবে। এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরগুলিকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার উপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি তিনি এই অভিযানের ব্যাপক প্রচারের উপরও গুরুত্ব আরোপ করেছেন। সভায় এই অভিযান নিয়ে রাজ্যের ৮টি জেলার জেলাশাসক ও সমাহর্তা এবং পুলিশ সদর দপ্তরের রাজ্য পুলিশের প্রতিনিধির সাথে ভার্চুয়ালি মতবিনিময় করা হয়। সভায় ‘মেরি মাটি মেরা দেশ” অভিযান কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব ড. পি কে চক্রবর্তী জানান, আজাদি কা আমৃত মহোৎসবের সমাপ্তি কর্মসূচির অঙ্গ হিসাবে ‘মেরি মাটি মেরা দেশ’ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য দেশের পঞ্চায়েতগুলি থেকে মাটি সংগ্রহ করে দিল্লির কতর্ব্য পথে আনা হবে। সেখানে আজাদি কা অমৃত মহোৎসব মেমোরিয়াল এবং অমৃত ভাটিকা তৈরি করা হবে। তিনি জানান, এই অভিযানের মূল বিষয়বস্তু হলো ‘মাটি’। গত বছরের ১৫ আগষ্টে ‘তিরঙ্গা’ অভিযান গ্রহণ করা হয়েছিল। এবছরের ১৫ আগষ্টে ‘মাটি’ কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সভায় তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব আরও জানান, পঞ্চায়েতস্তরে ‘মেরি মাটি মেরা দেশ”
কর্মসূচিতে দেশের বীরদের স্মরণে স্মৃতি ফলক বিশেষ করে অমৃত সরোবর জলাশয়ের নিকট স্থাপন করা,
পঞ্চায়েতে মাটির প্রদীপ দিয়ে পঞ্চপ্রাণ অঙ্গিকার গ্রহণ করে এই অভিযানের জন্য নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে সেলফি
আপলোড করা, ভারতের প্রতিটি গ্রামপঞ্চায়েতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় ৭৫টি গাছের চারা রোপন করা,
প্রতিরক্ষা কর্মী, রাজ্য পুলিশের কর্মী, সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স, স্বাধীনতা সংগ্রামী ও বীরদের পরিবারদের
সম্মান পদর্শন এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও রাষ্ট্রগান করা। সচিব জানান, এই কর্মসূচিতে মিটি যাত্রায়
গ্রাম থেকে মাটি সংগ্রহ করে পঞ্চায়েত এবং তারপর ব্লকে নিয়ে আসা হবে। প্রত্যেক ব্লক থেকে একজন করে
যুবক মাটির কলস নিয়ে দিল্লী কর্তব্যপথের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। দিল্লীর কর্তব্য পথেই প্রত্যেক ব্লক থেকে
আসা ৭ হাজার ৫০০ জন যুবকের আনা মাটি দিয়ে তৈরী হবে অমৃত ভাটিকা। সেখানেই চুড়ান্ত অনুষ্ঠানের
আয়োজন করা হবে। সভায় সচিব জানান, অনুরূপভাবে রাজ্যের নগর এলাকায়ও ‘মেরি মাটি মেরা দেশ’ অভিযান
কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
