🧧🚨সিবিএসসি স্কুলের বোর্ডের পরীক্ষার হিন্দি ও ইংরেজিতে বাধ্যতামূলক করার প্রতিবাদ জানার বাঙালি ছাত্র যুব সমাজ

বাঙালী ছাত্র/যুব সমাজ আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে সিবিএসসির স্কুলের বোর্ডের পরীক্ষা হিন্দি এবং ইংরেজিতে বাধ্যতামূলক করার যে ঘোষণা তার তীব্র নিন্দা জানান। গত ২৬শে জুলাই, বুধবার সিবিএসসি বোর্ডের ডিরেক্টর ড. যোশেফ মানুয়েল মহোদয় বিবেকনগর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ে সিবিএসই’র সামিটে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকে সিবিএসসি আওতাধীন সমস্ত স্কুলের বোর্ডের পরীক্ষা হিন্দি ও ইংরেজীতেই দিতে হবে। বর্তমানে রাজ্যে ১০০টি স্কুল রয়েছে সিবিএসসির আওতায়। সঙ্গে বিদ্যাজ্যোতির ১০০টি সরকারী স্কুলও সিবিএসসির অধীনে চলে গেছে। এমতাবস্থায় ড. যোশেফ ম্যানুয়েল এর ঘোষণার পর রাজ্যে সিবিএসসির অধীন ২০০টি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কারণ, বিদ্যাজ্যোতির আওতাধীন অনেক স্কুলের ছাত্রছাত্রী আছে যারা প্রাক্ প্রাথমিক স্তর থেকে বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করেছে। ইংরেজী, বিশেষ করে হিন্দির সঙ্গে এদের কোন পরিচয়ই নেই। এমতাবস্থায় চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই যদি বাংলাকে বাদ দিয়ে শুধু ইংরেজী ও হিন্দীতে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয় তবে তাদের পরীক্ষা পাশ করা কোনভাবেই সম্ভব হবেনা। বিদ্যাজ্যোতি প্রকল্পে স্কুলগুলিকে অন্তর্ভুক্তির আগে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের বলা হয়েছিল,বাংলা মাধ্যমের ছাত্রছাত্রীরা ভবিষ্যতে বাংলাতেই পরীক্ষা দিতে পারবে। একথা বলাতেই তখন কেউ আপত্তি তুলেনি। এখন সিবিএসসি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী যারা হিন্দি, ইংরেজী মাধ্যমে পরীক্ষা বসতে সক্ষম নয় তারা বাংলা মাধ্যমে পরীক্ষা দিতে পারবে, তবে এরজন্যে তাদেরকে ত্রিপুরা বোর্ডে নাম রেজেষ্ট্রী করে নিতে হবে। এতে করে ছাত্রছাত্রীদের পুরো বছর নষ্ট হবার উপক্রম হয়েছে। ত্রিপুরার ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই ছেলেখেলা বাঙালী ছাত্র-যুব সমাজ ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি কোনভাবেই মেনে নেবেনা। ত্রিপুরার ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিবিএসসির এই হটকারী সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ করছে তারা এবং ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের স্বার্থে সিবিএসসি কর্তৃপক্ষের  কাছে নিম্নলিখিত দাবী সনদ পূরণের দাবি রাখছে।
 চলতি বছরে ত্রিপুরাতে সিবিএসসি অধীন সমস্ত বিদ্যালয়গুলিতে বাংলা, ইংরেজী ও হিন্দি ভাষায় বোর্ডের পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
 বিদ্যাজ্যোতি স্কুলে পড়ুয়া ছাত্রীছাত্রীদের কাছ থেকে সব রকম ফি আদায় বন্ধ করতে হবে।  ত্রিপুরাতে বিদ্যাজ্যোতি তথা সিবিএসসি আওতাধীন সব বিদ্যালয়ে বিষয়শিক্ষক নিয়োগসহ পরিকাঠামো তৈরী না হওয়া পর্যন্ত বাংলা, ইংরেজী, হিন্দি সহ স্থানীয় ভাষায় পঠনপাঠন ও পরীক্ষাদানের ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে।
 বাংলার অধ্যুষিত অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে বাংলাকে শিক্ষার পাঠ্যক্রমে স্থান দিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *