সারা ভারত কৃষক সভা ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি গতকাল রাজ্যের মুখ্যসচিবের সাথে রাজ্যের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে কৃষকদের ১৪দফা দাবি নিয়ে এক ডেপুটেশনে মিলিত হয়।
মুখ্যসচিব সমস্ত দাবির সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেন এবং মুখামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনাক্রমে সব ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়েছেন। আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে দাবীগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন সারা ভারত কৃষক সভা ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির সম্পাদক পবিত্র কর।তিনি বলেন,
এটা ঠিক গত এক বছরে পরপর প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য রাজ্যের কৃষকদের ব্যাপকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়ে ছিল। কৃষক সভা এই ব্যাপারে একাধিকবার সরকারের নিকট বিভিন্ন পর্যায়ে ডেপুটেশনে সমস্ত বিষয়গুলো জানিয়েও কোনো ফল পায়নি। এবাবের ভয়ঙ্কর বন্যার ফলে প্রায় আড়াই লক্ষ কৃষক তাদের কৃষি জমির ফসল সহ সব কিছু খুইয়েছেন। পরিস্থিতি এমন এক জায়গায় এসে ঠেকেছে যে সরকার যদি সঠিকভাবে পাশে না দাঁড়ায় তাহলে রাজ্যের কৃষক, কৃষি ব্যবস্থা ও রাজ্যের অর্থনীতি ভেঙে পড়বে। সেটা অনুমান কবেই রাজ্য কৃষক সভা এই ডেপুটেশনে মিলিত হয়। সেখানে যেসমস্ত দাবি গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে সেগুলো হল, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সমস্ত কৃষকদের প্রধানমন্ত্রীর ফসল বীমা যোজনায় অতি সত্তর সহায়তা করতে হবে।
কৃষি ক্ষেত্রগুলো বন্যার জলের জন্যে পলিজমে, পলিথিন জমে থাকায় কৃষিকাজ কঠিন হয়ে পরেছে। সেই জমিকে চাষ উপযুক্ত করে তুলতে হবে।
এই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি জমি পুনরুদ্ধারের জন্য কৃষকদের রেগা ও টুয়েফের কাজের বন্দোবস্ত করতে হবে।
সমস্ত কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার, কীটনাশক, চারাগাছ অতি সত্তর দিয়ে সাহায্য করতে হবে।
যারা মৎস্য চাষ করেন সেই মৎস্যজীবীদের, তাদের জন্য মাছের পোনা, যারা গবাদিপশু পালন কবেন তাদের জন্যে গো খাদ্য, শূকর, ও পল্টি পালনকারীদের জন্য শূকর প্রজননের ব্যবস্থা বিনামূল্যে প্রদান করতে হবে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সেচ ব্যবস্থাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মেরামত করে কৃষকদের ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় অন্তর্বর্তীকালীন আর্থিক সহায়তা দিতে হবে যাতে তারা কৃষিকাজ শুরু করতে পারে।
ত্রিপুরার পার্বত্য এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজাতিদের স্বার্থে তাদের জুম চাষের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সাহার্য্য দিতে হবে।
বন্যায় পুকুরগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলোকে পূর্বাবত অবস্থায় আনতে প্যাকেজ ঘোষণা করতে হবে।
শাক সবজি উৎপাদনের জন্য ও ফুল, ফল ও বাগিচা কৃষির জন্য কৃষকদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় বীজ ও চাড়াগাছ প্রদান করতে হবে । সার ও কীটনাশক দিতে হবে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নষ্ট হয়ে যাওয়া জলাশয়গুলোকে কৃষকদের বিনা মূল্যে প্রয়োজনীয় মাছের পোনা সরবরাহ করতে হবে।
ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, কাঁচা লঙ্কা ইত্যাদি সবজি উৎপাদনে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
কালক্ষেপ না করে গো পালন সহ সমস্ত ধরনের পশু পালনে ও পশুখাদ্য ও গন টিকা প্রদান বিনামূল্যে করতে হবে।
কৃষকদের জন্য সুদ হীন ব্যাঙ্ক ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।
