এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর দোকান ভেঙ্গে তছনছ করল এক তোলাবাজ। ঘটনাটি ঘটে উদয়পুর আরকেপুর থানা থেকে দুই কিলোমিটার দূরে ক্যানেল চৌমুহনী এলাকায়। ঘটনার বিবরণে আক্রান্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রাজেশ সরকার জানান দীপাবলি মেলার শেষ দিন ভোর বেলার দিকে রেস্টুরেন্ট দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক এমন সময় মদমত্ত অবস্থায় এলাকারই এক বখাটে যুবক পেশায় রং মিস্ত্রি বর্তমানে তোলাবাজ ইন্দ্রজিৎ দাস রাজেশকে এক হাজার টাকা দেওয়ার জন্য বলে।দোকান মালিক রাজেশ টাকা দিতে আপত্তি করায় পাশের এক বাড়ি থেকে একটি লোহার রড এনে রাজেশকে এলো পাথাড়ি মারতে শুরু করে ইন্দ্রজিৎ। নিজের প্রাণ বাঁচাতে কোন রকমে দোকান থেকে বেরিয়ে দৌড়ে চলে যায় নিজ বাড়িতে। পিছনে ধাওয়া করে রাজেশের বাড়ির সামনে পর্যন্ত লোহার রড নিয়ে যায় ইন্দ্রজিৎ। সেখান থেকে ফিরে এসে ইন্দ্রজিৎ রাজেশের দোকান ঘরটি ভেঙ্গে তছনছ করে ফেলে। কেশ বাক্সে থাকা বার হাজার টাকা নিয়ে যায় ইন্দ্রজিৎ। পরে রাজেশ তার বৃদ্ধা মা এবং বৌদিকে নিয়ে এসে দোকানের অবস্থা দেখে বুক ফাটা চিৎকার শুরু করেন । ক্যানেল চৌমুহনী বাজারের কোন ব্যবসায়ী এগিয়ে আসেননি রাজেশকে সাহায্য করার জন্য। পরে নিরুপায় হয়ে রাজেশ ছুটে যান আরকেপুর থানায়। থানায় ইন্দ্রজিৎ এর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন দোকানের মালিক রাজেশ। অভিযোগ মূলে পুলিশ এসে রাজেশের দোকান ঘরটির অবস্থা দেখে তোলাবাজ ইন্দ্রজিৎ এর বাড়িতে যায়। পুলিশ আসার খবর পেয়ে তার আগেই ইন্দ্রজিৎ গা ঢাকা দেয়। জানা যায় ক্যানেল চৌমুহনীর প্রায় সব দোকান থেকেই নাকি তোলা আদায় করে থাকেন ইন্দ্রজিৎ। যে দোকান মালিক তোলা দিতে আপত্তি করেন তার উপরই হামলে পড়েন ইন্দ্রজিৎ। গত পরশু দিন রাতের বেলা একই ঘটনা সংগঠিত করেছেন অন্য এক ব্যবসায়ীর সাথে। জানা যায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নাকি তার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ আছেন ক্যানেল চৌমুহনী বাজারের ব্যবসায়ীরা। কেউ ভয়ে মামলা করেনি এতদিন। এখন দেখার বিষয় রাজেশ সরকারের অভিযোগ পেয়ে পুলিশ কি ভূমিকা পালন করেন। এই ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
