কৈলাসহরে মৃতদেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্য

আবারও এক মৃতদেহ উদ্ধার। তাও এবার খোদ শাসক দলের প্রাক্তন মন্ডল সভাপতির মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় তীব্র আতংক বিরাজ করছে। ঘটনা কৈলাসহরের সমরুরপাড় গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। সমরুরপাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঁচ নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন পরিমল দেবনাথ। পরিমল দেবনাথের স্ত্রী বিগত তিন বছর পূর্বে মারা যান। উনার কোন ছেলে মেয়ে ছিলো না। স্ত্রীর মৃত্যুর পর পরিমল দেবনাথ দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন। দ্বিতীয় স্ত্রী কিছু দিন সংসার করার পর পরিমল দেবনাথের নগদ টাকা পয়সা এবং গয়না নিয়ে পরিমল বাবুকে ছেড়ে চলে যায়। এরপর পরিমল বাবু দুইবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কিছুটা মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে গিয়েছিলেন।  এমন অসহায় অবস্থায় পরিমল বাবুকে উনার এক নিকট আত্মীয় একই গ্রামের কিরন দেবনাথ  উনার বাড়িতে নিয়ে যান এবং বিগত দেড় বছর ধরে কিরন দেবনাথের বাড়িতেই পরিমল দেবনাথ থাকতেন। কিরন দেবনাথ নিজেই বিগত দেড় বছর ধরে পরিমল দেবনাথকে খাওয়া দাওয়া এবং সেবাশুশ্রূষা করতেন বলে গ্রামবাসীরা এবং কিরন দেবনাথ নিজেই জানান। কিরন দেবনাথ আরও জানান যে, মানসিক অবসাদগ্রস্ত হবার পর থেকে মাঝে মাঝে পরিমল দেবনাথ কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে দূরে কোথাও চলে যেতেন। কিরন বাবু নিজেই গিয়ে আবার খোঁজে আনতেন। কিছু দিন আগে পরিমল বাবু বাড়ির কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে দশ কিলোমিটার দূরে শহরে অবস্থিত আদালত চত্বরে এসেছিলেন এবং এরও কিছু দিন আগে পরিমল দেবনাথ বাড়ি থেকে পনেরো কিলোমিটার দূরে মূর্তিছড়া চা বাগানে দশ নম্বর এলাকায় চলে গিয়েছিলেন। কিরন বাবুই নিজে গিয়ে খোঁজে আনতেন। প্রতিদিনের মতো  সোমবার রাত আটটা নাগাদ কিরন দেবনাথ পরিমল দেবনাথকে রাতের ভাত খাইয়ে দিয়ে বিছানায় নিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে নিজেও নিজের রুমে ঘুমিয়ে যান। মঙ্গলবার সকালবেলা কিরন বাবু ঘুম থেকে উঠে দেখেন বিছানায় পরিমল নেই। এরপর খোঁজাখুজির পর জানতে পারেন বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূরে ফনী শুক্ল বৈদ্যের পুকুরে এক মৃতদেহ পাওয়া গেছে। এই খবর শোনা মাত্রই কৈলাসহর থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুরের জল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে দেখা যায় মৃতদেহটি পরিমল দেবনাথের। পুলিশ মৃতদেহকে ময়নাতদন্তের জন্য ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়।  ঘটনা সম্পর্কে সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হয়ে কিরন দেবনাথ জানান যে, কি কারণে এবং কিভাবে ঘর থেকে বের হয়ে জলে পড়ে মারা গেলো তা উনি জানেন না।
উল্লেখ্য, মৃত পরিমল দেবনাথ বিজেপি দলের সক্রিয়  সদস্য ছিলেন। পরিমল দেবনাথ ২০০৪ সাল থেকে ২০১০ সাল অব্দি চন্ডীপুর মন্ডলের মন্ডল সভাপতি ছিলেন। মৃত পরিমল দেবনাথের অনেক জায়গা সম্পত্তি ছিল বলে জানা গেছে। সম্পত্তির কারণে কিংবা রাজনৈতিক কারণ কিংবা অন্য কোনো কারণে পরিমল দেবনাথ মারা গেছেন কিনা এনিয়ে এলাকায় গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এখন দেখার বিষয় পুলিশ কি ধরনের ভুমিকা নেয় নাকি এক্ষেত্রেও ধামাচাপা পড়ে যাবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *