সমবায়ের মাধ্যমে রাজ্য সরকার রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতী, গ্রামীণ মানুষ সহ সকলের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সমবায় সপ্তাহ পালন করার মূল উদ্দেশ্য হলো- কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। সমবায় মন্ত্রী প্রেম কুমার রিয়াং আজ আগরতলা টাউন হলে ৬৯-তম অখিল ভারত সমবায় সপ্তাহ-2022 উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত রাজ্যভিত্তিক আলোচনাচক্রের উদ্বোধন করে একথাগুলি বলেন। এবছর সমবায় সপ্তাহের মূল ভাবনা হলো- ‘স্বাধীনতার ৭৫ বর্ষ: সমবায়ের বিকাশ ও ভবিষ্যৎ ভাবনা’। প্রদীপ জ্বেলে এই আলোচনাচক্রের উদ্বোধন করে সমবায় মন্ত্রী প্রেম কুমার রিয়াং বলেন, রাজ্যে মোট সমবায় সমিতি রয়েছে ৩৭৯৮টি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ সমবায়ের মাধ্যমে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও সক্রিয় করতে বহুমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ-এর সভাপতিত্বে দিল্লিতে ২দিন ব্যাপী জাতীয় সমবায় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আমাদের রাজ্য সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যের সমবায় মন্ত্রীরা অংশ নেন। সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সমবায় মন্ত্রী দেশে সমবায় আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে নানা পরামর্শ দেন। এছাড়া বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, লেখাপড়ার পর সরকারি চাকুরির মুখাপেক্ষি না হয়ে সমবায়ের মাধ্যমে বেকার যুবক যুবতীরা যাতে স্বাবলম্বী হতে পারে সে লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকার নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের যা আছে তাকে অবলম্বন করেই এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, সমাজ, রাজ্য ও দেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদকে আরও সুদৃঢ় করতে, সমবায় আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। বিশেষ অতিথির ভাষণে ত্রিপুরা মার্কফেড-এর চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক কৃষ্ণধন দাস বলেন, সমবায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। এক ত্রিপুরা, শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা, এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত গড়তে সমবায় সমিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ অতিথির ভাষণে বিধায়ক মলিনা দেবনাথ বলেন, রাজ্য সরকার বিভিন্ন সমবায় সমিতি ও স্বসহায়ক দলকে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ায় ত্রিপুরা ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে। সম্মানিত অতিথির ভাষণে সমবায় দপ্তরের সচিব অভিষেক সিং নতুন প্রজন্মকে সমবায় সমিতিতে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের সমস্ত ল্যাম্পস ও প্যাক্সকে কম্পিউটারাইজড করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। স্বাগত ভাষণ দেন সমবায় নিয়ামক এস মগ। অনুষ্ঠানে সমবায় মন্ত্রী শ্রী রিয়াং সমবায় দপ্তরের স্মরণিকা ‘ককরীমা”-র আবরণ উন্মোচন করেন। এছাড়া তিনি দপ্তরের প্রচারপত্রের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে ভিডিও-র মাধ্যমে দপ্তরের সাফল্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠান শেষে সমবায় মন্ত্রী শ্রী রিয়াং প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বিমা যোজনায় প্রয়াত তৃপ্তি কর বণিকের স্বামী লিটন বণিকের হাতে ২ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন। ত্রিপুরা রাজ্য সমবায় ব্যাঙ্ক লিমিটেডের পক্ষ থেকে কেসিসি ও জয়েন্ট লায়েবিলিটি গ্রুপ স্কিমে দুর্গানগর প্যাক্সকে ১০ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা এবং লাটিয়াছড়া প্যাক্সকে ১৮ লক্ষ টাকার চেক ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়। ত্রিপুরা স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক ধনপুর শাখার মাইক্রো এটিএম চালু করেন সমবায় মন্ত্রী। এছাড়া তিনি এই ব্যাঙ্কের ইউপিআই পেমেন্টের উদ্বোধন করেন। তিনি এবছর সমবায়ের শ্রেষ্ঠতার নিরিখে কলাছড়া মহিলা বহুমুখী ক্লাস্টার, উদয়পুর প্রাইমারি ল্যাম্পস এবং গন্ডাছড়া ল্যাম্পস-কে ১০ হাজার টাকা করে চেক, স্মারক ও মানপত্র তুলে দেন। এছাড়া তিনি গোমতী কো-অপারেটিভ মিল্ক প্রডিউসার ইউনিয়নের দুগ্ধজাত মিষ্টির উদ্বোধন করেন। সভাপতিত্ব করেন ত্রিপুরা রাজ্য সমবায় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রণজয় কুমার দেব।
