প্রকৃতি ও জুম থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন শাকসব্জি খেলে শরীর সুস্থ ও নিরোগ থাকে। আমাদের পূর্বপুরুষেরা প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত শাকসব্জি খেয়ে দীর্ঘজীবী হতেন। এতে কোন রাসায়নিক উপাদান নেই। জনজাতি সহ সকল অংশের জনগণকে চিরাচরিত প্রথায় ফিরে যাবার জন্য অনুরোধ রাখছি। জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী রামপদ জমাতিয়া আজ সুপারি বাগানস্থিত দশরথ দেব স্মৃতি সাংস্কৃতিক ভবনে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী জনজাতিদের চিরাচরিত খাদ্য উৎসব-২০২২ এর উদ্বোধন করে একথাগুলি বলেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শ্রী জমাতিয়া ত্রিপুরা স্টেট একাডেমী অব ট্রাইবেল কালচার প্রাঙ্গণে জনজাতিদের বিভিন্ন খাবার নিয়ে প্রদর্শিত মোট ১১টি স্টলের উদ্বোধন করেন। এই উৎসব আগামী ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। এই উৎসবের উদ্বোধন করে জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী রামপদ জমাতিয়া বলেন, আগামীদিনে সবাই যাতে নিরোগ হন সে লক্ষ্যেই রাজ্য সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য এই উৎসবের আয়োজন। এই উদ্যোগকে সুচারু রাখতে আমাদের জনজাতিদের যে পরম্পরাগত খাদ্য আছে যেমন গোদক, বাঙ্গুই, মুইয়া, শামুক, মাশরুম, চাথুই, তারাই পাতা, বাশ করুল এগুলিকে প্রবহমান রাখতে হবে। এই খাদ্য ভোজ্য তেল বিহীন ও মশলা বিহীন তৈরী হয়। এতে কিডনি, পেট ও লিভার ভাল থাকে। রোগমুক্ত ও দীর্ঘজীবী হওয়া যায়। শামুক রান্না করে খেলে চোখের জ্যোতি ভাল থাকে। তিনি বলেন, মাইসুই এটা জুম খেতে উৎপন্ন হয়। এটা গম, ময়দা, আটা থেকেও শক্তিশালী ও পুষ্টিকর। এটা খেয়ে জনজাতি অংশের গর্ভবর্তী মহিলারা সুস্থ ও স্বাস্থাবান সন্তানের জন্ম দেন। তিনি বলেন, ফাষ্ট ফুড আমাদের যতটা সম্ভব পরিহার করতে হবে। খেতে হবে প্রকৃতি প্রদত্ত নানা উপাদান। খেতে হবে হলুদ। এটা অ্যান্টিবায়োটিক। রাজস্থানের জনগণ রোজ রাতে একগ্লাস দুধের সাথে হলুদ মিশিয়ে খান। এই প্রথা হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসছে। তিনি বলেন, জনজাতিরা যে মাংস ঝলসিয়ে খান তা আজ ফাইভস্টার হোটেলেও প্রচলন হয়েছে। এটা পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাদ্য। মাশরুমে মাংস ও মাছ থেকেও বেশী ক্যালোরি আছে। জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী শ্রী জমাতিয়া এইরূপ উৎসব প্রতি পাড়ায় করার আহ্বান জানান। এছাড়া বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের সভাপতি বিধায়ক ডা. অতুল দেববর্মা। স্বাগত ভাষণ দেন জনজাতি গবেষণা এবং সাংস্কৃতিক সংস্থার অধিকর্তা আনন্দহরি জমাতিয়া। উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ককবরক লেখক নরেশ চন্দ্ৰ দেববর্মা। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শ্রী জমাতিয়া প্রয়াত মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুরের জীবন ও কর্মধারা, রাজ্যের জনজাতিদের ঐতিহ্যগত খাদ্যাভাস, কালচারাল ইভেন্টস অব দা ইন্ডিজেনাস ট্রাইবস অব ত্রিপুরা শীর্ষক মোট ৩টি তথ্যচিত্র রিলিজ করেন। এই তিনটি ফিল্ম আগামীকাল দেখানো হবে। এছাড়া ‘ড্রাগ অ্যাডিকশন’ বিষয়ক একটি শর্ট ভিডিও দেখানো হবে। এছাড়া আগামীকাল ১২টি জনজাতি গোষ্ঠীর রমণীরা নিজ নিজ গোষ্ঠীর চিরাচরিত পোশাক পরে পদযাত্রায় অংশ নেবেন। এছাড়া রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শ্রী জমাতিয়া সহ অতিথিগণ খেলাধুলায় বিশেষ সাফল্য অর্জনের জন্য জাতীয় স্তরের ২৭ জন খেলোয়াড়কে এবং আন্তর্জাতিক স্তরের ৭ জন খেলোয়াড়কে পুরস্কৃত করেন। জাতীয়স্তরের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে দেওয়া হয় ৪০ হাজার টাকা ও শংসাপত্র। আন্তর্জাতিক স্তরের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে দেওয়া হয় ৫০ হাজার টাকা ও শংসাপত্র। উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন ত্রিপুরা স্টেট একাডেমী অব ট্রাইবেল কালচারের শিল্পীগণ। এছাড়া আয়োজিত হয় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
